প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 18, 2025 ইং
সখীপুরে খেজুর রসে পিঠা-পুলির পারিবারিক উৎসব

টাঙ্গাইলের সখীপুরে শীতের সকাল মানেই খেজুর রস, গুড়ের তৈরি ধোঁয়া ওঠা ভাপাপিঠা ও রসের পায়েসসহ বাহারি সব পিঠাপুলির আয়োজন। এ ছাড়া খোলা চিতুই, দুধ চিতুই, দুধপুলি, তেলে ভাজা পিঠা, কলার পিঠা, মুড়ির মোয়া, খইয়ের মুড়কিসহ প্রতিদিনের নানান আয়োজন। শীতের সকালে এসব পিঠাপুলি দিয়েই জমে ওঠে পারিবারিক উৎসব। এমন প্রতিটি আয়োজনের সঙ্গেই রয়েছে খেজুর গুড় ও রসের গভীর এক আত্মীয়তা। তাই সারা বছর অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছগুলো সেজেছে নতুন সাজে। গাছের বুক চিরে বের করা হচ্ছে সুমিষ্ট কাঁচা রস। আর এই রস প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হচ্ছে পাটালী গুড় ও দানাদার রস।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ বাড়ির আঙ্গিনায় খেজুর গাছ রয়েছে। রাস্তার পাশে ও বাড়ির আঙ্গিনায় অনেকটা অনাদরেই বেড়ে ওঠা গাছগুলো থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করছেন গাছিরা। শীতের শুরু থেকেই গাছের কাণ্ড পরিষ্কার ও কাঠি বা নলি বসানোর কাজ শেষ করেছেন গাছিরা। এখন পুরোদমে চলছে রস সংগ্রহের কাজ। তবে মানুষের সচেতনতার অভাব ও নির্বিচারে গাছ নিধন করায় দিনদিন পরিবেশ বান্ধব খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
স্থানীয় গাছি (খেজুর রস সংগ্রহকারী) আনোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে নিজের বাড়ির আঙ্গিনা ও প্রতিবেশীদের কয়েকটি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। এসব রস থেকে দিনে প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি গুড় হয়। শীত বেশি পড়লে পিঠাপুলির উৎসবে খেজুর গুড়ের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পায়। যে পরিমাণ শ্রম দিতে হয় সেই অনুযায়ী লাভ করতে পারি না। তবুও অনেকটা সখের বশেই এই কাজ করছি।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মজিদ জানান, বাজারে যে খেজুর গুড় পাওয়া যায় তা অনেক আগেই বিশ্বস্ততা হারিয়েছে। ফলে স্থানীয় গাছিদের হাতে বানানো গুড়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। বর্তমানে অর্গানিক খেজুর গুড় বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি। এ ছাড়া অনেকেই ভোর হলেই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাঁচা রস খেতে ভিড় করেন গাছিদের বাড়িতে।
উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের নব্বেছ আলী বলেন, প্রতি বছর শীতেই বোন, বোনের জামাই, মেয়ে, মেয়ের জামাই ও নাতি-পুতিদের পিঠাপুলির দাওয়াত খাওয়াতে হয়। বছরের ওই দুই-একটা দিন বাড়িতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। পরিবারের সবাই একত্র হয়। সবার আনাগোনায় বাড়িটা ভরে ওঠে, খরচ করেও শান্তি পাই। মূল আয়োজনই থাকে খেজুর রস-গুড় আর দুধের পিঠাকে (রস আর দুধের মিশ্রণে ভেজানো চিতুই পিঠা) কেন্দ্র করে।
বিপ্লব মল্লিক নামের এক খেজুর গুড় ব্যবসায়ী বলেন, অর্গানিক খেজুর গুড়ের প্রচুর চাহিদা। প্রতি কেজি খেজুর রস ও গুড় ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। বিশেষ করে অনলাইন থেকে প্রচুর অর্ডার আসে, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
উপজেলার মৌশা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রগতির আলোকে বলেন, খেজুরগাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। শুধু রাস্তার পাশে কিংবা জমির আইলে কিছু খেজুরগাছ এখনও রয়ে গেছে। গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় খেজুর রস সংগ্রহের ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশুদ্ধ রস ও গুড় পেতে অবশ্যই খেজুর গাছের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃdailyprogotiralo.com